
নিজস্ব সংবাদদাতা :
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের পাহাড় অনন্তপুর (ডিগ্রি ভূমি) গ্রামের এক প্রত্যন্ত ও র’ক্ষ’ণ’শীল পরিবেশের গণ্ডি পেরিয়ে যিনি আজ দেশের কুস্তি ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, তাঁর নাম শিরিন সুলতানা।
চারপাশের সামাজিক প্র’তি’ব’ন্ধ’ক’তা, দারিদ্র্য আর বাবার অকাল মৃ’ত্যু’র মতো ক’ঠি’ন বাস্তবতাকে পেছনে ফেলে তিনি আজ বাংলাদেশের সফল কুস্তি ইতিহাসের প্রথম নারী কোচ ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি।
শৈশবের সং’গ্রা’ম ও মায়ের প্রেরণা :
১৯৮৮ সালে পাহাড় অনন্তপুর ডিগ্রি ভূমি গ্রামে জন্ম নেওয়া শিরিন সুলতানার জীবন শুরু হয়েছিল নানা প্র’তি’কূ’ল’তা’র সাথে লড়াই করে। দুই ভাই ও দুই বোনের সংসারে তিনি মেজো। ছোটবেলায় পি’তৃ’হী’ন হওয়ার পর পুরো পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে মায়ের ওপর।
অদম্য মায়ের সমর্থন: র’ক্ষ’ণশীল সমাজ ও চ’র’ম পারিবারিক অ’ন’ট’নে’র মাঝেও মায়ের দৃঢ় মনোবল ও অনুপ্রেরণাই ছিল শিরিনের এগিয়ে যাওয়ার প্রধান শ’ক্তি।
প্র’তি’কূ’ল পরিবেশ জয়:
সমাজের নানান বা’ধা-বি’প’ত্তি’কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ছোটবেলা থেকেই মনের ভেতর এক অদম্য জে’দ লালন করতেন তিনি।
কুস্তির রিংয়ে অভাবনীয় সাফল্য :
প্রথাগত সমাজের গণ্ডি পেরিয়ে ২০০৯ সালে ঢাকায় ট্রায়ালের মাধ্যমে কুস্তি জগতে প্রবেশ করেন শিরিন। এরপর শুরু হয় তাঁর ইতিহাস গড়ার অধ্যায়।
টানা সাতবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন: ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা সাত বছর জাতীয় কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতে এক অনন্য রেকর্ড গড়েন তিনি।
দেশের প্রথম নারী কোচ: কুস্তিগীর হিসেবে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার পাশাপাশি তিনি আজ দেশের প্রথম নারী কুস্তি কোচ হিসেবে নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব:
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে গর্বের সাথে তুলে ধরেছেন তিনি।
কুস্তির রিং থেকে সফল কৃষি উদ্যোক্তা
খেলার মাঠে যেমন তিনি একজন অদম্য যো’দ্ধা, বাস্তব জীবনেও শিরিন সুলতানা সমানভাবে কর্মঠ ও সফল।
কুস্তির পাশাপাশি তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব খামার ও কৃষি কর্মকাণ্ড, যা তাঁর বহুমুখী প্রতিভা ও পরিশ্রমী মানসিকতার অনন্য নিদর্শন। ”প্র’তি’কূ’ল’তা মানুষকে থামিয়ে রাখতে পারে না, যদি মনের জোর ও মায়ের দোয়া সঙ্গে থাকে—শিরিন সুলতানার জীবন সংগ্রাম যেন এই কথারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।”


