MBN24 :
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় প্রচলিত আইন ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে একের পর এক অবৈধ ইটভাটা! হুমকির মুখে ফসলি উর্বর ভূমি।
এসব ইটভাটা কৃষি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) গ্রাস করার পাশাপাশি বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপন্ন করছে পরিবেশ। ফলে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে স্থানীয় কৃষি ও জনস্বাস্থ্য।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী কৃষি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বনাঞ্চল ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ হলেও ফুলবাড়ীয়া উপজেলার প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তা মানা হচ্ছে না। অধিকাংশ ভাটায় নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, বিএসটিআই’র সনদ বা জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স। এতে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বন বিভাগ সংলগ্ন , নাওগাও, এনায়েতপুর, ও রাধাকানাই ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ইট তৈরির জন্য
তিন ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। অনেক স্থানে ফসলি জমি খুঁড়ে বড় বড় পুকুর তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া গ্রামীণ সড়ক দিয়ে ভারী ড্রাম ট্রাকে মাটি ও ইট পরিবহনের ফলে রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। রাস্তায় পড়ে থাকা মাটি কুয়াশায় পিচ্ছিল হয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ফলদ ও বনজ গাছপালা মরে যাচ্ছে এবং ফসল পুড়ে যাচ্ছে। এছাড়া সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাজমূল হুদা জানান ,”ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় অধিকাংশ ইটভাটারই বৈধ লাইসেন্স নেই। অর্থাৎ এ উপজেলায় পরিচালিত সবকটি ইটভাটায় অবৈধ। “উপজেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “ফসলি জমির প্রাণ হলো উপরের ৮-১০ ইঞ্চির টপ সয়েল। এখানেই জৈব পদার্থ থাকে,কেটে নিলে জমি চিরস্থায়ীভাবে উর্বরাশক্তি হারিয়ে ফেলে,যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব, ফুলবাড়ীয়া উপজেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম খান বলেন, উপজেলায় অবৈধ ইট ভাটাসহ অবৈধ ভাবে সরকারি গ্রামীন কাঁচা রাস্তা নষ্ট করে ‘ফসলি উর্বর ভূমির মাটি’ ইট ভাটায় বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, “জমির টপ সয়েল কেটে নেওয়ার অভিযোগ পেয়ে আমি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি)কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে।