MBN24:
গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ বন্দি অবস্থায় মারা গেছেন আলোচিত শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শহিদুল ইসলাম শিপু (৫৪)। আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে কারাভ্যন্তরে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত শহিদুল ইসলাম শিপু গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী থানাধীন গোপালপুর এলাকার রফিক কন্ডাক্টরের ছেলে।
কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য ও মৃত্যু:
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর জেলার মো. আবুল হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে কারাগারের ভেতর হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে শিপুর। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কারা অ্যাম্বুলেন্সে করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কারা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, শিপু দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বন্দি ছিলেন এবং উচ্চ রক্তচাপসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেলেই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জানাজা ও দাফন:
শিপুর মৃত্যুর সংবাদ টঙ্গীতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা তার বাসভবনে ভিড় জমান। পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামীকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় টঙ্গীর গোপালপুর টিএন্ডটি মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় গোপালপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও বিচারিক পর্যায়:
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ও খ্যাতিমান শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
পরদিন নিহতের ভাই মতিউর রহমান বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে হাইকোর্ট ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন, যার মধ্যে শহিদুল ইসলাম শিপু অন্যতম ছিলেন। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
পরিবারের দাবি:
শিপুর পরিবারের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি, তৎকালীন যুবদল নেতা নূরুল ইসলাম সরকার ও নূরুল ইসলাম দিপুর ভাই হওয়ার কারণেই তাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়। শিপুর আকস্মিক এই মৃত্যুতে মামলার বিচারিক স্বচ্ছতা ও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।