MBN24 ONLINE : সুদানের যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করা এক বাংলাদেশী নাগরিক জনাব মোঃ ময়নুল হক, অবশেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় আজ মাতৃভূমির মাটিতে পা রাখলেন—ফিরলেন তাঁর আপন ঠিকানায়, তাঁর প্রিয় পরিবারের কাছে।
২০২২ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবেই’ (UNISFA)-তে বাংলাদেশের একটি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন, ব্যানব্যাট-৩ এর একটি টহলদল আবেই বাজার এলাকায় হঠাৎই এক বাংলাদেশী নাগরিকের সন্ধান পায়। উক্ত ব্যক্তির নাম জনাব মোঃ ময়নুল হক, পিতাঃ রজ্জব আলী, গ্রামঃ তালুক বাজিত, ডাকঘরঃ বামনডাঙ্গা, থানাঃ সুন্দরগঞ্জ, জেলাঃ গাইবান্ধা।
জানা যায়, প্রায় ১৯ বছর পূর্বে ঠিকাদারির কাজে সুদানের রাজধানী খার্তুমে পাড়ি জমান তিনি। কিন্তু হঠাৎ শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ তার জীবনকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে দেয়। বহুদিন অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকার পর প্রাণ বাঁচাতে তিনি পলায়ন করে চলে আসেন আবেই অঞ্চলে। দুর্ভাগ্যক্রমে এসময় তিনি হারান পাসপোর্টসহ সমস্ত বৈধ নথিপত্র, যার ফলে দেশে ফেরা তাঁর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাক্ষাৎ পেয়ে তার দেশে ফিরে আসার প্রবল আকুতির কথা জানান।
এ প্রেক্ষিতে আবেই তে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ বাংলাদেশে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতঃ বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং তার দেশে ফেরার আবেদন সেনাসদর এ প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে আবেদনটি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হলে গত ১৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ইথিওপিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশী দূতাবাস কর্তৃক উক্ত ব্যক্তির বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের নিমিত্তে ‘ট্রাভেল পারমিট’ ইস্যু করা হয়। এছাড়াও তার বর্তমান আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে দূতাবাস কর্তৃক বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের বিমান ভাড়া এবং আনুসাঙ্গিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এরপর গত ২৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আবেই হতে বিমানযোগে জুবা, সাউথ সুদানে আগমন করেন। জুবা, সাউথ সুদান হতে তিনি ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানযোগে আজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকায় অবতরণ করেন।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর সুদানের প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং তার পরিবারের সাথে মিলিত হতে পেরে জনাব ময়নুল হক খুবই আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি তার প্রত্যাবর্তনের জন্য সহায়তা প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় আটকে পড়া একজন বাংলাদেশী নাগরিকের দেশে প্রত্যাবর্তন এর মতো মানিবক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে পেরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যগণ আনন্দিত ও গর্বিত। যে কোন প্রয়োজনে দেশের মানুষের পাশে থাকার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
#BangladeshArmy

