
নিজস্ব সংবাদদাতা :
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে রূপসী বাংলা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আমরা গভীর শোক, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ–বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকান থেকে বের হওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত তাঁকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সাংবাদিক আলিফ ফকির মাদক, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিয়মিত লেখালেখি করতেন। তাঁর নিজস্ব একটি অনলাইন পোর্টালও ছিল। তিনি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা এলাকার বাসিন্দা এবং দুর্গাপুরের বিরিশিরি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি কুপিয়ে জখম হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
একজন সাংবাদিককে এভাবে হত্যা করা শুধু একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক সমাজের নিরাপত্তার জন্যও গভীর উদ্বেগের বিষয়।
আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাঁদের ওপর হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-
পরিজন,সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
আমাদের দাবি: ১. হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। ২. সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে। ৩. জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৪. সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ৫. পূর্বের হামলার ঘটনাসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
প্রতিবাদে সোচ্চার হোন—সাংবাদিক হত্যার বিচার চাই, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা চাই।


