ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নতুন সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অযোগ্য ও অনভিজ্ঞ আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী প্রার্থীদের মধ্য থেকে স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে ডিলার নিয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ ও বিতর্কের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ বাতিল এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে নিয়োগের দাবি জানানো হয়। অন্যদিকে, ঈশ্বরগঞ্জেও ডিলার নিয়োগের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
কৃষকদের কাছে সময়মতো ও ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দিতে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, ব্যবসায়িক সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা এবং নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি হলে প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীরা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উপকরণ বিতরণব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
যোগ্যদের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি
অভিযোগ উত্থাপনকারীদের দাবি, সার ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা প্রভাবের পরিবর্তে আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। যাঁরা সব শর্ত পূরণ করবেন, তাঁদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের পর সমানভাবে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা নির্ধারিত ডিলারশিপের তুলনায় বেশি হলে, প্রযোজ্য নীতিমালা ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা যেতে পারে বলে দাবি উঠেছে। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়বে এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিরসনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন দাবিদারেরা।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির আহ্বান
সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রণয়ন, আবেদন যাচাই-বাছাই এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে। কোনো আবেদনকারীকে অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং তালিকা তৈরিতে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং যোগ্য আবেদনকারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির যাচাই-বাছাই এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পর্যালোচনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের নতুন নীতিমালার আওতায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার তালিকা যাচাই-বাছাই চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত নিয়োগের তারিখ তখনো নির্ধারিত হয়নি।
ময়মনসিংহের সব উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং কৃষি বিভাগের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের সুনির্দিষ্ট তথ্য, প্রমাণ এবং বক্তব্য যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা জরুরি।
কৃষকবান্ধব সার বিতরণব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


