MBN24 :
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় রিসোর্ট দেখিয়ে প্রতারক হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ওরফে তাওহীদ (৩৪) এর ফাঁদে সব কিছু হারিয়ে পথে অনেকেই : প্রশাসনের সহযোগিতার আশায় সহজ সরল মানুষগুলো! ২০১৯ সালে ফুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমি কিনে প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক নামে রিসোর্টের কাজ শুরু করেন। কাজ শুরু হলে তার প্রলোভনে আরও অনেকেই টাকা লেনদেনের রসিদ ছাড়া তাকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ২০২০ সাল প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে রিসোর্টের কাজ শেষ হয়। পরে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটকদের জন্য এই রিসোর্ট উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। রিসোর্টে প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা, সুইমিংপুলে গোসল ১০০ টাকা এবং রিসোর্টের ভেতরে ঘোরাঘুরির জন্য ৫০ টাকা করে টিকেট কিনেতে হয় দর্শনার্থীদের। দলে দলে পর্যটক তার রিসোর্টে ভিড় করতে থাকে। অনেকে বিয়ে, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য তার রিসোর্ট ভাড়া নিতে থাকে। তখন তিনি বিভিন্ন বিত্তশালী ব্যক্তিদের তার রিসোর্টে আমন্ত্রণ জানান এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিট করা ছবি দেখিয়ে তার প্রজেক্টসহ অন্যান্য প্রজেক্টে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করেন। তাওহীদের একাধিক ব্যাংকে নামে-বেনামে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে এই অ্যাকাউন্টগুলোতে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি কখনও নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা বা তার পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার, বৈমানিক কর্মকর্তাসহ ভুয়া পরিচয় দিয়ে নানাবিধ প্রতারণা করে আসছিলেন। বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে টেন্ডারের বিষয়ে তদবির করার জন্য ভুয়া পরিচয় দিয়ে ফোনালাপ করে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেন। যদিও সে কাউকে কাজ পাইয়ে দিতে সক্ষম হননি। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে র্যাব দাবি করেছে, তাওহীদ সোনা চোরাচালান ও সোনার বারের অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
পরবর্তীতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় কিছু জমি ক্রয় করেন। শ্বশুড়ের মাধ্যমে এলাকার লোকের সাথে নিজেকে একজন বিত্তশালী লোক হিসেবে পরিচিত হন। পাশাপাশি প্রচার করতে থাকেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার। দামি গাড়ি হাঁকিয়ে এবং পোশাক পরিধান করে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, গণ্যমান্য বিত্তশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়ের সহায়তায় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক প্রজেক্টে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখান। এ ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে অর্থ এবং উন্নয়ন মূলক কাজ করতে তাদেরকে আশ্বস্ত করতেন। তার তার মিষ্টি আচরণে প্রলুব্ধ হয়ে অনেকেই চাকরি, বদলি, টেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদবির নিয়ে তার কাছে আসা শুরু করেন। তিনি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চাকরি প্রত্যাশী, পছন্দমত জায়গায় বদলি, সরকারি চাকরি, বিভিন্ন ক্রয়-বিক্রয় ও উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে কাজ বাগিয়ে এনে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত শুরু করেন। এবং কি রিসোর্টের কর্মচারিদের পাকা ঘর করে দেওয়ার প্রলোবন দেখিয়ে নিয়ছে লাখ লাখ টাকা।
একসময় ধরা পরেন র্যাবের হাতে,পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে গাইবান্ধা জেলা ও পলাশবাড়ি উপজেলার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সহ সকল মহলকে ম্যানেজ করে পলাশবাড়ির কোমরপুরে রাধা গোবিন্দের মন্দির স্থাপন করেন। তার টাকার উৎস খুঁজতে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতারিত সহজ সরল মানুষদের অর্থ ফেরৎসহ কঠিন বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীগণ।