
নিজস্ব সংবাদদাতা :
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা, আর্থিক লেনদেন এবং তথ্য আদান-প্রদানের ব্যাপক প্রসারের ফলে অপরাধের ধরন ও কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রচলিত অপরাধসমূহের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে এবং সাইবার স্পেস এখন অপরাধ সংঘটনের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা, হ্যাকিং, ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার, ডিপ ওয়েব ও ডার্ক ওয়েবে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা, উগ্রবাদী প্রচারণা এবং স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের মত জটিল ও বহুমাত্রিক সাইবার অপরাধ ক্রমাগত বাড়ছে। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জনগণের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
বর্তমান বাস্তবতায় দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও অপরাধমুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পুলিশের একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ ০১ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিকভাবে নবগঠিত সাইবার পুলিশ ইউনিট উদ্বোধন করেন।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকির, বিপিএম এর সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) জনাব এ কে এম আওলাদ হোসেন।
নবগঠিত সাইবার পুলিশ ইউনিট দেশের সকল পর্যায়ে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তৎপরতা, সাইবার থ্রেট মনিটরিং, অনলাইন উগ্রবাদ দমন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য দ্রুত, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও নিরাপত্তা আরো সুদৃঢ় হবে।


