সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ১ নম্বর জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদিরকে আবারও চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আব্দুল কাদির ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সংকটের সময়ে পাশে থাকার বিষয়টিও তাঁর সমর্থকদের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল কাদির জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় ইউনিয়নের প্রশাসনিক পরিচিতি ও সাংগঠনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে বলে স্থানীয়রা জানান। তাঁদের ভাষ্য, তাঁর সময়েই ১৫ নম্বর ইউনিয়ন থেকে বর্তমান ১ নম্বর জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে রূপান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, কালভার্ট ও সেতুসহ বেশ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এর মধ্যে ডুলুড়া থেকে ইব্রাহিমপুর সড়ক নির্মাণকে তাঁরা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ওই সড়ক নির্মাণের ফলে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের সুনামগঞ্জ শহরে যাতায়াতে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তাঁরা মনে করেন।
এ ছাড়া তাঁর মেয়াদে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ, বিভিন্ন স্থানে কালভার্ট ও সেতু নির্মাণসহ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বেশ কিছু কাজ হয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান। এসব উন্নয়নকাজের ফলে ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে তাঁদের দাবি।
আব্দুল কাদিরের সমর্থকদের আরও দাবি, দায়িত্ব পালনকালে তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতিতে তিনি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তাঁর সমর্থকরা। তাঁদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির জন্য জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, এলাকার সমস্যা সম্পর্কে ধারণা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আব্দুল কাদিরের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর সমর্থকদের প্রত্যাশা, তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে আবারও ইউনিয়নের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে এসব উন্নয়ন ও ভূমিকার বিষয়ে সরকারি নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। একইভাবে আগামী নির্বাচনে আব্দুল কাদির প্রার্থী হবেন কি না, সে বিষয়েও তাঁর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিজ্ঞ ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের চলমান উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে ইউনিয়নের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে।