নিজস্ব সংবাদদাতা
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার জোরবাড়ীয়া ডি-কাচারি পুকুর পুনঃখনন, পুকুরপাড় বাঁধাই ও ঘাট নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণকাজ এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজের শিডিউল (BOQ/Specification) বারবার দেখতে চাইলেও সংশ্লিষ্টরা তা প্রকাশ করেননি। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুকুর ঘাটের ঢালাই শেষ হওয়ার পরদিনই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থায়ীভাবে ত্রুটি দূর করার পরিবর্তে ফাটল সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একই স্থানে আবারও ফাটল দেখা দিলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে।
অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, পরিদর্শনের পরও মূল ত্রুটি সংশোধনের পরিবর্তে কেবল উপরিভাগে মেরামতের কাজ করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কোনো কার্যকর সমাধান নয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রকল্পের টেন্ডারে গাইডওয়াল নির্মাণ, ঘাটের ওপর ছাউনি, পুকুরপাড়ে বৃক্ষরোপণ এবং ঘাসের কার্পেটিংয়ের কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও সেসব কাজ বাস্তবে দৃশ্যমান নয়। এছাড়া পুকুরপাড় নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দিয়েছে এবং ঘাটে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, কাজের শিডিউল জনসম্মুখে প্রকাশ না করায় প্রকল্পে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা মনে করেন, কাজের পূর্ণাঙ্গ শিডিউল প্রকাশ করলে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে এবং অনিয়ম থাকলে তা সহজেই উদঘাটিত হবে।
স্থানীয়দের দাবি, জোরবাড়ীয়া ডি-কাচারির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় ঘাটটি টেকসই ও মানসম্মত নকশায় পুনর্নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরপাড় সংস্কার, টেন্ডার অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ, ঘাসের কার্পেটিং এবং অন্যান্য অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও বাস্তবায়নকারী দপ্তরের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, কাজের শিডিউল প্রকাশ, প্রকল্পের কারিগরি ও আর্থিক নিরীক্ষা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন, দাবি উপেক্ষিত হলে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনসহ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করবেন।