MBN24 :
১৭ মার্চ ১৯২০ সালের এই দিনে ফরিদপুর জেলার তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে তাঁর জন্ম। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি বাঙালির অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি প্রথমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশ ভারত ও পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে তাঁকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়। ১৯৬৬ সালে তিনি ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন, যা বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনে নতুন গতি আনে। ১৯৬৮ সালে তাঁকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি করা হয়। তবে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থান ও জনচাপের মুখে পাকিস্তান সরকার মামলা প্রত্যাহার করে তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। মুক্তির পর ছাত্র–জনতা তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে। শৈশবে ‘খোকা’ নামে পরিচিত মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণকে পরে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় UNESCO। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে তাঁর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করলে ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। একই বছরের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) তিনি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ২৫ মার্চ রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানি বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন। পরে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি কারামুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডির বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।