MBN24 :
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ফসলি উর্বর জমির মাটি অবৈধভাবে কেটে দশ চাকার ট্রাকের মাধ্যমে নিয়মিত টাঙ্গাইলের মধুপুরের বিভিন্ন ইটভাটাসহ ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় অবৈধ ভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বনভূমি নাওগাঁও, রাঙ্গামাটিয়া সংলগ্নসহ ও পুঁটিজানা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে একটি কু চক্র নিয়মিতভাবে ফসলি উর্বর জমির মাটি কেটে মধুপুর উপজেলা উপজেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় পাচার করছে কতিপয় অসাধু মাটির ব্যবসায়ী এবং দালার। এই অবৈধ মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মধুপুরের এক ব্যবসায়ী সুহেল নিজেকে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আরিফুল ইসলাম এর খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা গ্রামে রাজ্জাকের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে ফসলি উর্বর জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে আসছে। মাটি ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, তারা ইউএনও’র কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন। তবে লিখিত কোনো অনুমতিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন তারা। এ বিষয়ে সাংবাদিক ও এলাকাবাসী একাধিকবার ইউএনও অফিসকে অবহিত করলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণ অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিজানিয়েছেন।সংশ্লিষ্টরা বলছেন,এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একাধিক আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে।বাংলাদেশ ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) অনুযায়ী ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া মাটি উত্তোলন ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব আইনে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই আইনের ৫(খ) ধারা অনুযায়ী ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।সরকারি সম্পত্তি ক্ষতি আইন ভারী ট্রা কচলাচলের মাধ্যমে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা ধ্বংস হওয়ায় সরকারি সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ক্ষুব্ধ জনমত, প্রশাসনের নীরবতা! স্থানীয় সুশীল সমাজ ও এলাকাবাসীর অভিযোগ,একাধিকবার প্রশাসনের নিকট অভিযোগ জানানো হলেও ইউএনও কার্যালয় থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে কৃষি জমি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পরিবেশ বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজ অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং সরকারি রাস্তার ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানিয়েছেন।
