
MBN24 :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে ময়মনসিংহ ৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মোঃ জসিম উদ্দিন (প্রতীক ঘোড়া) তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। সোমবার ফুলবাড়ীয়া পৌর এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, সংস্কৃতি ও নাগরিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
শিক্ষা খাতে অগ্রাধিকার :
ইশতেহারে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফুলবাড়ীয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে সরকারিকরণের উদ্যোগ গ্রহণ, উপজেলায় একটি কারিগরি কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং প্রথম সারির পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এছাড়া ফুলবাড়ীয়া কে.আই. কামিল মাদরাসায় অনার্স কোর্স চালু এবং একটি সমৃদ্ধ পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।

স্বাস্থ্যসেবা :
স্বাস্থ্য খাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতি বছর একটি করে অ্যাম্বুলেন্স সংযোজন, আধুনিক ল্যাব ও অপারেশন থিয়েটার স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সেবার মানোন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
কৃষি ও অর্থনীতি:
কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে কৃষকদের সহায়তায় একটি আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য সুদবিহীন কৃষি ঋণ ও ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা এবং ধান, লাল চিনি, হলুদ, লেবু ও আনারসসহ বিভিন্ন ফসলের বহুমুখী উৎপাদনে উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন :
বেকারত্ব নিরসনে ফুলবাড়ীয়ায় শিল্পকারখানা স্থাপন, শিক্ষিত তরুণদের দেশ ও প্রবাসে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
বিনোদন, ক্রীড়া ও পর্যটন :
ইশতেহারে পৌর এলাকায় একটি আধুনিক পার্ক স্থাপন, বড় বিলা ও সন্তোষপুর রাবার বাগান কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা এবং একটি মিনি স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রয়েছে।
সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি :
উপজেলা মডেল মসজিদকে ইসলামিক সংস্কৃতি ও সাহিত্য চর্চার কেন্দ্রে রূপান্তর, ওয়ার্ডভিত্তিক মসজিদ-ভিত্তিক পাঠাগার প্রতিষ্ঠা, হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য আধুনিক মন্দির, পূজামণ্ডপ ও শ্মশানের ব্যবস্থা এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য গির্জা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
নাগরিক নিরাপত্তা ও সেবা :
ফুলবাড়ীয়া থানাকে মডেল থানায় রূপান্তর, আছিম-কালাদহ এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বাজারে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথা বলা হয়। নারী ও শিশুর নিরাপত্তায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ এবং ফায়ার সার্ভিস আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। নাগরিক সেবা উন্নয়নে সরকারি অফিসগুলোকে দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। উপজেলা সদর ও পৌর এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন, ফুলবাড়ীয়া বাজারে দুটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার ও বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সড়ক ও পরিবেশ :
উপজেলার সব কাঁচা রাস্তা পাকা করা, ব্রিজ ও কালভার্ট সংস্কার এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলার সঙ্গে সংযোগ সড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণে নদী, খাল ও বিল খনন ও দখলমুক্তকরণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও ইশতেহারে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বলেন, “ফুলবাড়ীয়াকে একটি আধুনিক, শিক্ষাবান্ধব ও কর্মসংস্থানসমৃদ্ধ উপজেলায় রূপান্তর করাই আমার লক্ষ্য।”
