MBN24 :
ময়মনসিংহে মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার সময় পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের হাত থেকে হাতকড়াসহ আরিফুল ইসলাম নামের এক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তার সহযোগীরা। হামলায় ৫ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে নগরীর দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে স্থানীয় রাসেল নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। আহত রাসেল বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল অভিযান চালিয়ে আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার শেষে তাকে নিয়ে ফেরার পথে আসামির পিতা সাগর আলীর নেতৃত্বে কয়েকশ ব্যক্তি লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে আরিফুলকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।
এসআই ফরিদ আহমেদ সন্ধ্যা ৭টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জানান, হামলায় আহত এক এএসআই ও তিন কনস্টেবলসহ মোট পাঁচ পুলিশ সদস্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি মো. নাজমুস সাকিব বলেন, “কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এ ঘটনায় আসামির পিতা সাগর আলীকে আটক করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে র্যাব ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামিসহ হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে