নিজস্ব প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আমলী আদালত, ময়মনসিংহে দায়ের করেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কাহালগাঁও গ্রামের আজিজুল এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. আজিজুল হক।
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, মামলার একমাত্র আসামি হলেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের উদ্যানদাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মতিউর রহমান।
মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আসামির সঙ্গে তাঁর পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে উভয়ের মধ্যে নিয়মিত আর্থিক লেনদেনও চলত। কয়েক মাস আগে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আসামি বাদীর নিকট ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার চান। দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও সুসম্পর্কের কারণে বাদী নিজের জমি বিক্রির অর্থ থেকে ওই টাকা আসামিকে প্রদান করেন। আসামি তিন মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা ফেরত না দিয়ে আসামি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে টাকা পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট তারিখে রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, ত্রিশাল শাখা থেকে ইস্যুকৃত ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক বাদীর কাছে হস্তান্তর করেন।
পরে বাদী ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট তারিখে চেকটি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফুলবাড়ীয়া শাখায় জমা দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ “অপর্যাপ্ত তহবিল (Insufficient Funds)” উল্লেখ করে চেকটি ফেরত দেয় (Dishonour)।
পরবর্তীতে বাদীপক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে ৩০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে আইন অনুযায়ী লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পরও আসামি টাকা পরিশোধ না করায় নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলায় সাক্ষী হিসেবে মাও. মো. আবু রশিদ, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. হাবিব আলী এবং মো. জিয়াউর রহমান-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা সবাই ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কাহালগাঁও এলাকার বাসিন্দা। আদালত মামলার নথি গ্রহণ করে আইনানুগ কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. মতিউর রহমানের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিলকৃত মামলার আরজি ও আদালতের নথির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।